গাছ কীভাবে আলো-মাধ্যাকর্ষণে সাড়া দেয়।
↔ পুরো চিত্র দেখতে পাশে সোয়াইপ করো
উদ্ভিদের হরমোনকে ফাইটোহরমোন বলে। অক্সিন — কাণ্ডের ডগায় তৈরি, কোশ লম্বা হতে সাহায্য করে ও ট্রপিজম ঘটায়। জিব্বেরেলিন — কাণ্ডের দৈর্ঘ্য ও বীজের অঙ্কুরোদ্গম বাড়ায়। সাইটোকাইনিন — কোশ বিভাজন বাড়ায় ও বার্ধক্য দেরি করায়। অ্যাবসিসিক অ্যাসিড (ABA) — বৃদ্ধি রোধ করে, পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে ও সুপ্তি আনে। ইথিলিন — গ্যাসীয় হরমোন, ফল পাকায়।
কোন হরমোন ফল পাকায়?
ইথিলিন।
কোশ বিভাজনে কোন হরমোন সাহায্য করে?
সাইটোকাইনিন।
অরণ্যে খরায় পত্ররন্ধ্র বন্ধ করে কোন হরমোন?
অ্যাবসিসিক অ্যাসিড।
উদ্দীপনার দিক অনুযায়ী উদ্ভিদাঙ্গের বেঁকে যাওয়াকে ট্রপিজম বলে। আলোর দিকে কাণ্ডের বাঁকা ফোটোট্রপিজম (কাণ্ড ধনাত্মক, মূল ঋণাত্মক); মাধ্যাকর্ষণ অনুযায়ী মূলের নিচে ও কাণ্ডের ওপরে বাড়া জিওট্রপিজম (মূল ধনাত্মক, কাণ্ড ঋণাত্মক); জলের দিকে মূলের বৃদ্ধি হাইড্রোট্রপিজম; স্পর্শে লতার পেঁচিয়ে ওঠা থিগমোট্রপিজম। এই বাঁকের কারণ অক্সিনের অসম বণ্টন।
ফোটোট্রপিজম কাকে বলে?
আলোর উদ্দীপনায় উদ্ভিদাঙ্গের দিক-নির্দিষ্ট বাঁক।
শিকড় মাটির নিচে যায় কেন? এটি কোন ট্রপিজম?
মাধ্যাকর্ষণের দিকে বাড়ে; ধনাত্মক জিওট্রপিজম।
লাউ-শসার লতা অবলম্বনকে জড়ায় কেন? এটি কোন ট্রপিজম?
স্পর্শের উদ্দীপনায়; থিগমোট্রপিজম।
একদিক থেকে আলো এলে অক্সিন কাণ্ডের ছায়ার দিকে সরে যায়। ছায়ার দিকে অক্সিন বেশি থাকায় সেদিকের কোশ বেশি লম্বা হয়, ফলে কাণ্ড আলোর দিকে বেঁকে যায়। মনে করো ছায়ার দিকে বৃদ্ধি 2 mm/দিন এবং আলোর দিকে 1 mm/দিন। 5 দিনে দুই দিকের দৈর্ঘ্য 20 mm ও 15 mm (শুরুতে 10 mm), পার্থক্য 5 mm; এই অসম বৃদ্ধিই বাঁক তৈরি করে। (সংখ্যাগুলি ব্যাখ্যার জন্য ধরা, বাস্তব মাপ নয়।)
ছায়াদিক 2 mm/দিন ও আলোদিক 1 mm/দিনে 5 দিন বাড়লে দুই দিকের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য কত?
(2 − 1) × 5 = 5 mm।
আলোর দিকে অক্সিন কম থাকে কেন?
অক্সিন আলো থেকে সরে ছায়ার দিকে চলে যায়।
কাণ্ডের ডগা কেটে দিলে ফোটোট্রপিজম হবে কি? কেন?
হবে না; কারণ অক্সিন ডগাতেই তৈরি হয়।
1. উদ্ভিদ হরমোনকে কী বলে?
2. অক্সিন কোথায় তৈরি হয়?
3. ইথিলিনের একটি কাজ লেখো।
4. জিব্বেরেলিনের কাজ কী?
5. ট্রপিজম কাকে বলে?
6. কাণ্ড ও মূল ফোটোট্রপিজমে কেমন সাড়া দেয়?
7. জিওট্রপিজম কী?
8. ABA কী কাজ করে?
9. কোন হরমোন বার্ধক্য দেরি করায়?
10. অক্সিনের অসম বণ্টনে কী ঘটে?