অধ্যায় ২ · WBBSE নবম শ্রেণি জীববিজ্ঞান

কোশ

জীবনের গঠনগত ও কার্যগত একক: কোশ ও তার অংশ।

🔬 অধ্যায় ২

Watch in 60 seconds

কোশ: জীবনের একক

উদ্ভিদ ও প্রাণী কোশের গঠন ৬০ সেকেন্ডে। Video coming soon.

উদ্ভিদ ও প্রাণী কোশ উদ্ভিদ কোশে কোশপ্রাচীর, ক্লোরোপ্লাস্ট ও বড় কোশগহ্বর থাকে; প্রাণী কোশে এগুলি থাকে না, উভয়েই নিউক্লিয়াস ও কোশঝিল্লি থাকে। উদ্ভিদ কোশ প্রাণী কোশ কোশগহ্বর কোশপ্রাচীর ক্লোরোপ্লাস্ট নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়াস মাইটোকন্ড্রিয়া কোশঝিল্লি (প্লাজমা মেমব্রেন) অণুবীক্ষণে 400 গুণ বড় দেখালে 2 mm ছবির আসল মাপ = 2 ÷ 400 = 0.005 mm = 5 µm

↔ পুরো চিত্র দেখতে পাশে সোয়াইপ করো

২.১

কোশ আবিষ্কার ও কোশতত্ত্ব

রবার্ট হুক 1665 সালে কর্কের পাতলা ফালি অণুবীক্ষণে দেখে মৌচাকের ঘরের মতো গঠনের নাম দেন কোশ (cell)। পরে শ্লাইডেন ও শোয়ান কোশতত্ত্ব দেন: সব জীবদেহ এক বা একাধিক কোশে গঠিত, এবং কোশ জীবের গঠন ও কাজের একক। ভিরশো যোগ করেন যে নতুন কোশ পুরোনো কোশ থেকেই সৃষ্টি হয়। অণুবীক্ষণে মাপের সূত্র: আসল মাপ = ছবির মাপ ÷ বিবর্ধন।

1

কোশ কাকে বলে?

জীবদেহের গঠন ও কাজের একক, যা নিজে থেকে জীবনের সব লক্ষণ দেখাতে পারে।

2

কে প্রথম কোশ আবিষ্কার করেন এবং কীভাবে?

রবার্ট হুক (1665), কর্কের পাতলা ফালি অণুবীক্ষণে দেখে।

3

400 গুণ বিবর্ধনে একটি কোশের ছবি 2 mm দেখাচ্ছে। আসল মাপ কত?

আসল মাপ = 2 ÷ 400 = 0.005 mm = 5 µm।

২.২

কোশের গঠন ও অঙ্গাণু

কোশের তিনটি প্রধান অংশ: কোশঝিল্লি (প্লাজমা মেমব্রেন), সাইটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস। কোশঝিল্লি কোশের ভিতরে কী ঢুকবে ও বেরোবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। সাইটোপ্লাজমে অঙ্গাণু থাকে: মাইটোকন্ড্রিয়া (শক্তি উৎপাদন, কোশের শক্তিঘর), রাইবোজোম (প্রোটিন সংশ্লেষ), গলগি বডি (সংরক্ষণ ও পরিবহন), লাইসোজোম (জীর্ণকরণ) এবং উদ্ভিদ কোশে ক্লোরোপ্লাস্ট (সালোকসংশ্লেষ)। নিউক্লিয়াসে ক্রোমোজোম ও DNA থাকে এবং এটি কোশের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

1

কোশের শক্তিঘর কোনটি এবং কেন?

মাইটোকন্ড্রিয়া, কারণ এখানে শ্বসনের মাধ্যমে ATP রূপে শক্তি তৈরি হয়।

2

নিউক্লিয়াসের কাজ কী?

কোশের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করা এবং বংশগত তথ্য (DNA) ধারণ করা।

3

ক্লোরোপ্লাস্ট কোথায় থাকে এবং কী কাজ করে?

উদ্ভিদ কোশে থাকে; সালোকসংশ্লেষের মাধ্যমে খাদ্য তৈরি করে।

২.৩

উদ্ভিদ কোশ ও প্রাণী কোশের পার্থক্য

উদ্ভিদ কোশের বাইরে সেলুলোজের কোশপ্রাচীর থাকে, প্রাণী কোশে থাকে না। উদ্ভিদ কোশে সবুজ ক্লোরোপ্লাস্ট ও বড় একটি কোশগহ্বর থাকে; প্রাণী কোশে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে না এবং কোশগহ্বর থাকলেও ছোট ও অসংখ্য। উদ্ভিদ কোশের আকার সাধারণত নির্দিষ্ট (বহুভুজ), প্রাণী কোশের আকার অনিয়মিত। দুই ধরনের কোশেই নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া ও কোশঝিল্লি থাকে।

1

উদ্ভিদ কোশ ও প্রাণী কোশের দুটি পার্থক্য লেখো।

উদ্ভিদ কোশে কোশপ্রাচীর ও ক্লোরোপ্লাস্ট আছে; প্রাণী কোশে নেই।

2

উভয় কোশে কোন কোন অংশ সাধারণ?

কোশঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস ও মাইটোকন্ড্রিয়া।

3

কোশপ্রাচীরের কাজ কী?

উদ্ভিদ কোশকে আকার ও দৃঢ়তা দেওয়া এবং রক্ষা করা।

অনুশীলন

অনুশীলনী

1. কোশ শব্দটি কে প্রথম ব্যবহার করেন?

2. কোশতত্ত্বের প্রবক্তা কারা?

3. কোশের তিনটি প্রধান অংশের নাম লেখো।

4. কোশের শক্তিঘর কাকে বলে?

5. রাইবোজোমের কাজ কী?

6. উদ্ভিদ কোশে কোশপ্রাচীর কোন পদার্থে গঠিত?

7. লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলি বলে কেন?

8. 400 গুণ বিবর্ধনে ছবির মাপ 4 mm হলে আসল মাপ কত?

9. নিউক্লিয়াসে কী থাকে?

10. উদ্ভিদ কোশের কোন অঙ্গাণু সালোকসংশ্লেষ করে?

পরবর্তী অধ্যায় — কলা →