অধ্যায় ৭ · WBBSE নবম শ্রেণি জীববিজ্ঞান

মানুষের পরিপাকতন্ত্র

খাবার কীভাবে ভেঙে শরীরের কাজে লাগে।

🍽️ অধ্যায় ৭

মানুষের পরিপাকতন্ত্রের ধাপ মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত খাদ্যনালির ছয়টি ধাপ ও প্রতিটির কাজ। মুখ লালারসের অ্যামাইলেজ: স্টার্চ → মল্টোজ অন্ননালী পেশির তরঙ্গে খাদ্য নিচে ঠেলে দেয় (পেরিস্টালসিস) পাকস্থলী HCl ও পেপসিন: প্রোটিনের জীর্ণকরণ শুরু ক্ষুদ্রান্ত্র পিত্ত, অগ্ন্যাশয়রস; পরিপাক শেষ ও শোষণ (প্রায় 6 m) বৃহদন্ত্র জল ও লবণ শোষণ; মল তৈরি (প্রায় 1.5 m) পায়ু মল ত্যাগ ক্যালরি: কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন 4 kcal/g, ফ্যাট 9 kcal/g। 50 g কার্বো + 20 g প্রোটিন + 10 g ফ্যাট = 370 kcal।

↔ পুরো চিত্র দেখতে পাশে সোয়াইপ করো

৭.১

পরিপাকনালি ও সহযোগী গ্রন্থি

মানুষের পরিপাকনালি মুখ → গলবিল → অন্ননালী → পাকস্থলী → ক্ষুদ্রান্ত্র → বৃহদন্ত্র → পায়ু। সহযোগী গ্রন্থিগুলি হল লালাগ্রন্থি, যকৃৎ (পিত্ত তৈরি করে) ও অগ্ন্যাশয় (অগ্ন্যাশয়রস)। পরিপাক হল জটিল খাদ্যকে সরল দ্রবণীয় পদার্থে ভেঙে দেওয়া, আর শোষণ হল সেই সরল পদার্থ রক্তে মেশা। শোষণ প্রধানত ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিলাইয়ের মাধ্যমে হয়।

1

পরিপাকতন্ত্রের সহযোগী গ্রন্থিগুলির নাম লেখো।

লালাগ্রন্থি, যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়।

2

পরিপাক ও শোষণের পার্থক্য কী?

পরিপাকে জটিল খাদ্য সরল পদার্থে ভাঙে; শোষণে সরল পদার্থ রক্তে মেশে।

3

ক্ষুদ্রান্ত্রে ভিলাই থাকার সুবিধা কী?

শোষণের তলের ক্ষেত্রফল বাড়ায়, ফলে দ্রুত শোষণ হয়।

৭.২

উৎসেচক ও খাদ্যের পরিপাক

মুখে লালারসের অ্যামাইলেজ স্টার্চকে মল্টোজে ভাঙে। পাকস্থলীতে HCl খাদ্যকে অ্যাসিডিক করে এবং জীবাণু মারে, আর পেপসিন প্রোটিনকে পেপটোনে ভাঙে। ক্ষুদ্রান্ত্রে পিত্ত চর্বিকে ছোট কণায় ভাঙে (ইমালসিফিকেশন) এবং অগ্ন্যাশয়রস ও অন্ত্ররসের উৎসেচক (ট্রিপসিন, লাইপেজ, অ্যামাইলেজ) কার্বোহাইড্রেটকে গ্লুকোজে, প্রোটিনকে অ্যামাইনো অ্যাসিডে এবং চর্বিকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলে পরিণত করে।

1

লালারসের উৎসেচক কোন খাদ্যের পরিপাক শুরু করে?

স্টার্চ (কার্বোহাইড্রেট); অ্যামাইলেজ স্টার্চকে মল্টোজে ভাঙে।

2

পাকস্থলীতে HCl-এর কাজ কী?

জীবাণু ধ্বংস করা এবং পেপসিনের কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ তৈরি করা।

3

পিত্তে উৎসেচক না থাকলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন?

এটি চর্বিকে ক্ষুদ্র কণায় ভেঙে লাইপেজের কাজ সহজ করে।

৭.৩

খাদ্যের শক্তি

খাদ্য থেকে পাওয়া শক্তি ক্যালরিতে মাপা হয়। 1 g কার্বোহাইড্রেট থেকে প্রায় 4 kcal, 1 g প্রোটিন থেকে প্রায় 4 kcal এবং 1 g ফ্যাট থেকে প্রায় 9 kcal শক্তি মেলে। সুষম খাদ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ লবণ, জল ও আঁশ সঠিক অনুপাতে থাকে। ক্ষুদ্রান্ত্র প্রায় 6 মিটার লম্বা এবং বৃহদন্ত্র প্রায় 1.5 মিটার।

1

একটি খাবারে 50 g কার্বোহাইড্রেট, 20 g প্রোটিন ও 10 g ফ্যাট আছে। মোট শক্তি কত?

50 × 4 + 20 × 4 + 10 × 9 = 200 + 80 + 90 = 370 kcal।

2

ওজন সমান হলে কার্বোহাইড্রেট না ফ্যাট বেশি শক্তি দেয়?

ফ্যাট; প্রতি গ্রামে 9 kcal, যা কার্বোহাইড্রেটের (4 kcal) দ্বিগুণেরও বেশি।

3

সুষম খাদ্য কাকে বলে?

যে খাদ্যে সব পুষ্টি উপাদান সঠিক অনুপাতে থাকে।

অনুশীলন

অনুশীলনী

1. পরিপাকনালির অঙ্গগুলি ক্রমানুসারে লেখো।

2. পিত্ত কোথায় তৈরি হয়?

3. লালারসের উৎসেচকের নাম কী?

4. পেপসিন কোন খাদ্যের পরিপাকে সাহায্য করে?

5. শোষণ প্রধানত কোথায় ঘটে?

6. বৃহদন্ত্রের প্রধান কাজ কী?

7. অগ্ন্যাশয় রসের একটি উৎসেচকের নাম লেখো।

8. 1 g ফ্যাট থেকে কত kcal শক্তি পাওয়া যায়?

9. 30 g কার্বোহাইড্রেট থেকে কত kcal শক্তি মেলে?

10. পেরিস্টালসিস কী?

পরবর্তী অধ্যায় — রক্ত ও সংবহনতন্ত্র →