দেহ থেকে বর্জ্য বের করার ব্যবস্থা।
↔ পুরো চিত্র দেখতে পাশে সোয়াইপ করো
বিপাকে তৈরি অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর পদার্থ (যেমন ইউরিয়া, CO₂) দেহ থেকে বের করাকে রেচন বলে। মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ বৃক্ক (কিডনি), যা মূত্র তৈরি করে। এ ছাড়া ত্বক (ঘাম), ফুসফুস (CO₂) ও যকৃৎ (পিত্তে বর্জ্য) সাহায্য করে। রেচনতন্ত্রে দুটি বৃক্ক, দুটি মূত্রনালী (ইউরেটার), একটি মূত্রথলি ও একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) আছে।
রেচন কাকে বলে?
বিপাকজাত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে বের করার প্রক্রিয়া।
ত্বক কীভাবে রেচনে সাহায্য করে?
ঘামের সঙ্গে জল, লবণ ও সামান্য ইউরিয়া বের করে।
রেচনতন্ত্রের অঙ্গগুলির নাম লেখো।
বৃক্ক, মূত্রনালী (ইউরেটার), মূত্রথলি ও মূত্রনালি (ইউরেথ্রা)।
বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক নেফ্রন; প্রতি বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ নেফ্রন থাকে। নেফ্রনের প্রধান অংশ: গ্লোমেরুলাস (কৈশিকনালির গুচ্ছ), বোম্যান ক্যাপসুল ও লম্বা নালিকা। গ্লোমেরুলাসে রক্তচাপের জোরে জল, গ্লুকোজ, লবণ ও ইউরিয়া ছেঁকে বোম্যান ক্যাপসুলে আসে (পরিস্রবণ)। নালিকায় প্রয়োজনীয় পদার্থ ও অধিকাংশ জল রক্তে ফিরে যায় (পুনঃশোষণ)। বাকি অংশ মূত্র।
নেফ্রনের প্রধান অংশগুলি কী কী?
গ্লোমেরুলাস, বোম্যান ক্যাপসুল ও বৃক্কীয় নালিকা।
পরিস্রবণ কোথায় ঘটে?
গ্লোমেরুলাস থেকে বোম্যান ক্যাপসুলে।
পুনঃশোষণ কেন দরকার?
গ্লুকোজ, জল ও লবণের মতো দরকারি পদার্থ যাতে দেহ হারিয়ে না ফেলে।
বৃক্কে দিনে প্রায় 180 L তরল পরিস্রুত হয়, কিন্তু মূত্র হয় মাত্র প্রায় 1.5 L; অর্থাৎ 178.5 L (99.2%) পুনঃশোষিত হয়। মূত্রের প্রায় 95% জল, বাকিটা ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও লবণ। বৃক্ক অকেজো হলে কৃত্রিম বৃক্কে ডায়ালিসিস করে রক্ত পরিষ্কার করা হয়। বৃক্কের পাথর ও সংক্রমণ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত জল পান জরুরি।
দিনে 180 L পরিস্রুত ও 1.5 L মূত্র হলে কত L পুনঃশোষিত হয়?
180 − 1.5 = 178.5 L।
কত শতাংশ পরিস্রুত তরল পুনঃশোষিত হয়?
178.5 ÷ 180 × 100 = 99.2%।
ডায়ালিসিস কী কাজে লাগে?
বৃক্ক অকেজো হলে কৃত্রিম উপায়ে রক্ত থেকে বর্জ্য সরাতে।
1. রেচন কাকে বলে?
2. প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?
3. বৃক্কের একক কী?
4. গ্লোমেরুলাস কী?
5. মূত্রের প্রধান উপাদান কী?
6. মূত্রথলি কী কাজ করে?
7. ইউরিয়া কোথায় তৈরি হয়?
8. ঘাম রেচনে কীভাবে সাহায্য করে?
9. ডায়ালিসিস কাকে বলে?
10. পুনঃশোষণ না হলে কী ঘটত?