অধ্যায় ১ · WBBSE দশম শ্রেণি জীববিজ্ঞান

স্নায়ুতন্ত্র ও প্রতিবর্ত ক্রিয়া

নিউরন, মস্তিষ্ক এবং দেহের দ্রুত সাড়া।

🧠 অধ্যায় ১

প্রতিবর্ত চাপ ত্বকের গ্রাহক থেকে সংবেদী নিউরন, সুষুম্নাকাণ্ড ও চালক নিউরন হয়ে পেশিতে সাড়া পৌঁছোনোর পাঁচ ধাপ। গ্রাহক (ত্বক) সংবেদী নিউরন সুষুম্নাকাণ্ড চালক নিউরন কার্যকারী (পেশি) প্রতিবর্ত ক্রিয়ার পথ (প্রতিবর্ত চাপ) মস্তিষ্ক এড়িয়ে সুষুম্নাকাণ্ডই সিদ্ধান্ত নেয়, তাই সাড়া দ্রুত হয়। ধরা যাক স্নায়ু-আবেগের বেগ = 120 m/s, গ্রাহক থেকে সুষুম্নাকাণ্ড হয়ে পেশি পর্যন্ত পথ = 1.2 m সময় = 1.2 ÷ 120 = 0.010 s = 10 ms (প্রতিটি সংযোগস্থলে সামান্য অতিরিক্ত সময় লাগে) মস্তিষ্ক ঘুরে 2 m পথ হলে = 16.7 ms; তাই প্রতিবর্তে সাড়া দ্রুততর।

↔ পুরো চিত্র দেখতে পাশে সোয়াইপ করো

১.১

স্নায়ুকোশ বা নিউরন

নিউরন স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যগত একক। এর তিনটি অংশ: কোশদেহ (নিউক্লিয়াস থাকে), ডেনড্রাইট (বার্তা গ্রহণ করে) এবং অ্যাক্সন (বার্তা পরের কোশে পাঠায়)। দুই নিউরনের সংযোগস্থলকে সিন্যাপস বলে; সেখানে রাসায়নিক পদার্থ (নিউরোট্রান্সমিটার) বার্তা পার করে। নিউরন তিন ধরনের: সংবেদী (গ্রাহক থেকে কেন্দ্রে), চালক (কেন্দ্র থেকে কার্যকারীতে) ও যোগকারী (মাঝখানে)।

1

নিউরনের তিনটি অংশের নাম লেখো।

কোশদেহ, ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন।

2

সিন্যাপস কাকে বলে?

দুটি নিউরনের সংযোগস্থল, যেখানে নিউরোট্রান্সমিটার বার্তা বহন করে।

3

সংবেদী ও চালক নিউরনের পার্থক্য কী?

সংবেদী নিউরন গ্রাহক থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে বার্তা আনে; চালক নিউরন কেন্দ্র থেকে পেশি বা গ্রন্থিতে নিয়ে যায়।

১.২

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্ক

কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র = মস্তিষ্ক + সুষুম্নাকাণ্ড। মস্তিষ্কের প্রধান তিনটি অংশ: সেরিব্রাম (চিন্তা, স্মৃতি, ইচ্ছাধীন কাজ, ইন্দ্রিয়ানুভূতি), সেরিবেলাম (দেহের ভারসাম্য ও পেশির সমন্বয়) এবং মেডুলা অবলংগাটা (হৃৎস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো অনৈচ্ছিক কাজ নিয়ন্ত্রণ; এটি সুষুম্নাকাণ্ডে মিশেছে)। মস্তিষ্ক খুলির করোটিতে এবং তিনটি পর্দা (মেনিনজেস) ও তরলে সুরক্ষিত।

1

সেরিবেলামের কাজ কী?

দেহের ভারসাম্য রক্ষা ও পেশির সমন্বয়।

2

হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস কোন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে?

মেডুলা অবলংগাটা।

3

মস্তিষ্ক কীভাবে সুরক্ষিত থাকে?

করোটির হাড়, তিনটি মেনিনজেস পর্দা ও সেরিব্রোস্পাইনাল তরল দিয়ে।

১.৩

প্রতিবর্ত ক্রিয়া

উদ্দীপনায় মস্তিষ্কের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই হঠাৎ ও স্বয়ংক্রিয় সাড়াকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে; যেমন গরম বস্তু ছুঁলে হাত সরে যাওয়া, চোখে আলো পড়লে মণি ছোট হওয়া। পথ: গ্রাহক → সংবেদী নিউরন → সুষুম্নাকাণ্ড → চালক নিউরন → কার্যকারী (প্রতিবর্ত চাপ)। স্নায়ু-আবেগ প্রায় 120 m/s বেগে চলে ধরলে 1.2 m পথে সময় লাগে 10 ms। প্রতিবর্ত দুই রকম: সহজাত (জন্মগত, যেমন হাঁচি) ও অর্জিত (শেখা, যেমন সাইকেল চালানো)।

1

বেগ 120 m/s হলে 1.2 m প্রতিবর্ত পথ পেরোতে কত সময় লাগে?

t = 1.2/120 = 0.010 s = 10 ms।

2

প্রতিবর্ত ক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত কোথায় হয়?

সুষুম্নাকাণ্ডে; মস্তিষ্ক পরে অনুভূতি পায়।

3

একটি সহজাত ও একটি অর্জিত প্রতিবর্তের উদাহরণ দাও।

সহজাত — হাঁচি বা চোখের পলক; অর্জিত — সাইকেল চালানো।

অনুশীলন

অনুশীলনী

1. নিউরন কাকে বলে?

2. অ্যাক্সনের কাজ কী?

3. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র কী কী নিয়ে গঠিত?

4. সেরিব্রামের দুটি কাজ লেখো।

5. মেডুলা অবলংগাটা কী নিয়ন্ত্রণ করে?

6. প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সংজ্ঞা দাও।

7. প্রতিবর্ত চাপের ধাপগুলি ক্রমে লেখো।

8. সিন্যাপস কী?

9. 120 m/s বেগে 2.4 m পথে সময় কত?

10. প্রতিবর্ত ক্রিয়া কেন দ্রুত হয়?