অধ্যায় ৩ · WBBSE নবম শ্রেণি রসায়ন

রাসায়নিক বন্ধন

পরমাণুরা ইলেকট্রন দান-গ্রহণ বা ভাগাভাগি করে কীভাবে যুক্ত হয়।

🔗 অধ্যায় ৩

আয়নিক ও সমযোজী বন্ধন আয়নিক ও সমযোজী বন্ধনের তুলনামূলক কার্ড। আয়নিক বন্ধন ইলেকট্রন দান-গ্রহণ উদাহরণ: NaCl, MgCl₂ সমযোজী বন্ধন ইলেকট্রন ভাগাভাগি উদাহরণ: H₂O, N₂, CH₄ N₂ অণুতে 3টি যুগ্ম ইলেকট্রন (ত্রিবন্ধন); O₂ তে 2টি (দ্বিবন্ধন); H₂ এ 1টি (একবন্ধন)। আয়নিক যৌগ: উচ্চ গলনাঙ্ক, গলিত বা দ্রবণে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। সমযোজী যৌগ: নিম্ন গলনাঙ্ক, সাধারণত বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।

↔ পুরো চিত্র দেখতে পাশে সোয়াইপ করো

৩.১

আয়নিক বন্ধন

পরমাণুরা নিকটতম নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মতো স্থিতিশীল বিন্যাস (অষ্টক বা দ্বিত্ব) পেতে চায়। ধাতু ইলেকট্রন ছেড়ে ধনাত্মক আয়ন (ক্যাটায়ন) এবং অধাতু ইলেকট্রন নিয়ে ঋণাত্মক আয়ন (অ্যানায়ন) হলে বিপরীত আধানের স্থির-তড়িৎ আকর্ষণে যে বন্ধন তৈরি হয় তাকে আয়নিক বা তড়িৎযোজী বন্ধন বলে। Na (2,8,1) 1টি ইলেকট্রন ছেড়ে Na⁺ (2,8) এবং Cl (2,8,7) তা নিয়ে Cl⁻ (2,8,8) হয়; ফলে NaCl গঠিত হয়।

1

MgCl₂ গঠন ইলেকট্রন স্থানান্তরের মাধ্যমে দেখাও।

Mg (2,8,2) 2টি ইলেকট্রন ছেড়ে Mg²⁺ হয়; দুটি Cl (2,8,7) প্রতিটি 1টি করে নিয়ে 2Cl⁻ হয়। ফল: Mg²⁺ ও 2Cl⁻।

2

সোডিয়াম ও ক্লোরিন পরমাণু আয়নে পরিণত হলে ইলেকট্রন বিন্যাস কেমন হয়?

Na⁺ = 2,8 (নিয়নের মতো) এবং Cl⁻ = 2,8,8 (আর্গনের মতো)।

3

NaCl কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে না, কিন্তু গলিত অবস্থায় করে কেন?

কঠিনে আয়নগুলি স্থির; গলিত অবস্থায় আয়ন মুক্তভাবে চলতে পারে।

৩.২

সমযোজী বন্ধন

দুটি অধাতব পরমাণু বাইরের কক্ষের ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে যুগ্ম ইলেকট্রনের মাধ্যমে যে বন্ধন গড়ে তাকে সমযোজী বন্ধন বলে। H₂ অণুতে একটি যুগ্ম (একবন্ধন), O₂ তে দুটি (দ্বিবন্ধন), N₂ তে তিনটি (ত্রিবন্ধন)। জল (H₂O), অ্যামোনিয়া (NH₃), মিথেন (CH₄) ও CO₂ সমযোজী যৌগ। H₂O তে অক্সিজেন (2,6) দুটি H-এর সঙ্গে দুটি জোড় ইলেকট্রন ভাগ করে অষ্টক পূর্ণ করে।

1

নাইট্রোজেন অণুতে কয়টি যুগ্ম ইলেকট্রন আছে?

তিনটি (ত্রিবন্ধন), কারণ প্রতিটি N-এর 5টি যোজ্যতা ইলেকট্রন আছে এবং অষ্টক পূর্ণ করতে আরও 3টি লাগে।

2

H₂O অণুতে কয়টি সমযোজী বন্ধন আছে?

দুটি (O–H বন্ধন)।

3

CH₄ তে কার্বনের (2,4) যোজ্যতা কত?

4, কারণ চারটি H-এর সঙ্গে চারটি জোড় ইলেকট্রন ভাগ করে।

৩.৩

আয়নিক ও সমযোজী যৌগের ধর্ম

আয়নিক যৌগ সাধারণত কঠিন, কেলাসিত, উচ্চ গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কযুক্ত; জলে দ্রবীভূত হয় এবং দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করে। সমযোজী যৌগ সাধারণত গ্যাস, তরল বা নরম কঠিন; গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক কম; জলে অল্প দ্রবণীয় (শর্করা ও অ্যালকোহল ব্যতিক্রম) এবং বিদ্যুৎ পরিবহন করে না।

1

আয়নিক ও সমযোজী যৌগের গলনাঙ্কের পার্থক্য কারণসহ লেখো।

আয়নিকের গলনাঙ্ক বেশি, কারণ আয়নগুলির মধ্যে স্থির-তড়িৎ আকর্ষণ প্রবল; সমযোজী অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণ দুর্বল।

2

(a) NaCl, (b) H₂O তে কোন বন্ধন আছে?

(a) আয়নিক। (b) সমযোজী।

3

কোনো যৌগ গলিত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহন করলে সেটি কোন ধরনের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?

আয়নিক যৌগ।

অনুশীলন

অনুশীলনী

1. অষ্টক নিয়ম বলতে কী বোঝায়?

2. আয়নিক বন্ধন কাকে বলে?

3. সমযোজী বন্ধন কাকে বলে?

4. NaCl-এ Na⁺ ও Cl⁻ এর ইলেকট্রন বিন্যাস লেখো।

5. O₂ অণুতে কোন ধরনের বন্ধন আছে?

6. আয়নিক যৌগের দুটি ধর্ম লেখো।

7. সমযোজী যৌগের দুটি ধর্ম লেখো।

8. H₂ অণুতে বন্ধন কোন ধরনের?

9. MgO আয়নিক যৌগ কেন?

10. CO₂ অণুতে কয়টি দ্বিবন্ধন আছে?